শক্তি প্রণাম

আমাদের বুকের মাঝে কখনো ভেসে ওঠে না গ্রীস

পোস্টম্যানের চাকরি হেমন্তের অরণ্যে

পরস্পর থেকে দূরে সরে যাওয়া নক্ষত্র আর মানুষ দেখি

মানুষ তো এক প্রকার নক্ষত্রের কনা, নাকী?

মৃদু স্বরে ডেকে যায় অন্ধকার শালবন

ছেঁড়া পকেট থেকে বহুকাল আগেই পড়ে গেছে জলে, জুলেখা ডবসন

কোন গাছ নেয় না আমাদের

গাছ গাছেদের চিঠিও দেয় না

ফলে আমাদের অফুরন্ত সময়

বসে বসে গণনা করি জামার আয়ুষ্কাল

যাতে পাওয়া যায় উত্তর সেই অমোঘ প্রশ্নের

একটি জামা কতদিনে ছেঁড়ে?

হিরণ্য জল আমাদের ধুয়ে দেয়, ও প্রীতিভাজনেষু

পাতার শোকে ম্রিয়মান সাঁকো

ভেঙে পড়ে রোজ রাত্তিরে ভিতরে আমাদের

দুই চড়ুইয়ের ছোট সংসারের দীর্ঘতা

শিকড়-বাকড়

চারশ বছরের প্রাচীনতায় মোড়ানো দীর্ঘশ্বাস

সব আমাদের কাছে এসে চিরপ্রণম্য অগ্নির রুপ ধরে

কুর্নিশ করে হেটে যায়

বিড়াল, সন্ন্যাসী কিংবা বিরহ ও বিসর্জন

বসে থাকে অবিচল, নীল ভালোবাসায়

ঈশ্বর জেগে আছেন, জলে আছেন

ধান কাটা শেষ

ঈশ্বর জেগে আছেন

পলিমাটি নখে ছিঁড়ে

তার জন্য একটা স্বচ্ছ জলের পুকুর

খুব দরকার

নীল হ্যারিকেন, এলোমিনিয়ামের চাঁদ

বালতিতে রেখে

কারা যেন বালিতে রেখে যায় পায়ের দাগ

আমরা তন্তুজাল ছিঁড়ে ফেলে

হাতে নিয়ে একটি পাথর ও দুটি পাথর

জন্ম থেকেই মাটির ওপরে আছি

মৃত্যুর পরেও হেটে যেতে পারবো এই আশায়

এই কবিতার সব লাইন শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতা থেকে নেয়া। অন্য লেখকের লেখা থেকে লাইন নিয়ে সাজাইয়া কবিতা বানানোর এই স্টাইল, সেন্টো, এক ধরণের ফাউন্ড পোয়েট্রি। বিখ্যাত ফ্রেঞ্চ পেইন্টার মার্শেল দুচাম্পের দর্শন, ডাডাইজম থেকে প্রভাবিত।

২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বরে করা। কবির জন্মদিন।

এটা আমার ওই লেখকরে সম্মান জানানোর স্টাইল।

শেয়ার